অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর চুল কেটে আগুনে পোড়ালেন মাদ্রাসাশিক্ষক

ভোলায় স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে মারধর করে মাথার চুল কেটে দিয়েছেন স্বামী সাইফুল ইসলাম। চুল কাটার পর থেকেই লজ্জায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ওই গৃহবধূ। অভিযুক্ত স্বামী সাইফুল ইসলাম বোরহানউদ্দিনের দারুস সুন্নাত মডেল মাদ্রাসার শিক্ষক।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দৌলতখান উপজেলার লেজপাতা গ্রামের মৃত মফিজুল ইসলামের কামিল পড়ুয়া মেয়ে খাদিজার সঙ্গে সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী গ্রামের সাইফুল ইসলামের ৮ মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে মাদ্রাসাশিক্ষক সাইফুলের কর্মস্থল বোরহানউদ্দিনে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন ওই দম্পতি। বর্তমানে তিনি ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

খাদিজার অভিযোগ, আগে থেকেই তার স্বামী পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। সে জন্য তাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন। এ ছাড়া যৌতুকের টাকার জন্য বিয়ের পর থেকেই মারধর শুরু করেন। সোমবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে মারধর করে তার মাথার চুল কেটে আগুনে পুড়িয়ে দেন এবং ঘরের মধ্যে তালা মেরে সাইফুল মাদ্রাসায় চলে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার হয়ে তিনি বাবার বাড়ি চলে আসেন।

তিনি আরও জানান, তার বাবা না থাকায় স্বামীর দাবিকৃত টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ জন্য তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েও প্রতিবাদ করেননি।

খাদিজার মা মনোয়ারা বেগম ও চাচা কয়সার আহম্মেদ জানান, মেয়েকে তারা অনেক কষ্ট করে মাদ্রাসায় পড়িয়েছেন। আলেম দেখে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মেয়ের সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ করা হতো এটা তারা জানতেন না। সাইফুলের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন খাদিজার স্বজনরা।

ছেলের বউকে নিতে এসে হতবাক হয়েছেন সাইফুলের বাবা তৈয়বুর রহমানও। বুধবার দুপুরে তিনি জানান, ছেলে তাকে বলেছেন খাদিজা রাগ করে চলে এসেছে। কিন্তু এসে পরিস্থিতি দেখে ছেলের এমন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিচার চেয়েছেন তিনি।

এদিকে বুধবার সকাল থেকেই মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম আত্মগোপনে রয়েছেন।

দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলার রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ভিকটিমকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছে। ভিকটিমের বাড়ি দৌলতখান থানায় হলেও ঘটনা ঘটেছে পার্শ্ববর্তী বোরহানউদ্দিন থানায়। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।