শিরোনাম:

ছুটি শেষে বিদেশে বসে অফিস করতে চান ওয়াসা এমডি

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান তিন মাসের ছুটি কাটানোর পর এবার বিদেশে বসে আরও এক মাস কাজ করার অনুমতি চেয়েছেন। তবে পরিচালনা পর্ষদের সভায় তার আগের তিন মাসের ছুটির বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। নতুন করে আরও এক মাস বিদেশে অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করতে দিতে রাজি নন পর্ষদের সদস্যরা।

ওয়াসার পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সদস্য জানান, বিদেশে বসে কাজের অনুমতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এক মাসের জন্য ছুটি মঞ্জুর করা হলে তা হতে পারে বিনা বেতনে। এমডির বিদেশে বসে অফিস করার আবেদনের অনুমোদনের বিষয়ে ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় পর্ষদের ভার্চুয়াল জরুরি সভা ডাকা হয়। এ দিনই এমডির তিন মাসের ছুটির শেষ দিন ছিল। এতে বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা সদস্যদের মতামত চাইলে সদস্যরা একযোগে বিরোধিতা করেন। পরে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে সবাই একমত হন।
জানতে চাইলে ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা গতকাল সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, এমডির ছুটি নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা কনফিউজিং (বিভ্রান্তিকর)। মন্ত্রণালয় তাকে একদিকে তিন মাসের ছুটি মঞ্জুর করেছে; আবার কাজ করতেও দিচ্ছে। ছুটিতে থেকে তিনি ফাইলে সই করছেন এবং সভা পরিচালনা ও সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করছেন। দুটি বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না। এটা পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। বিষয়টি সমাধানে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, চিকিৎসা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গত ২৭ এপ্রিল তিন মাসের জন্য ছুটিতে যান ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ছুটির আদেশ হয়েছিল গত ১৬ মার্চ। আদেশে ২০ মার্চ থেকে ১৯ জুন অথবা যাত্রা শুরুর দিন থেকে তিন মাসের ছুটি মঞ্জুর করা হয়। আদেশে আরও বলা হয়, এমডির ছুটির সময় ওয়াসার পরিচালক (উন্নয়ন) রুটিন (নিয়মিত) দায়িত্ব পালন করবেন। এতে তাকসিম এ খানের যুক্তরাষ্ট্র থেকে এমডির দায়িত্ব পালন বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই।

তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এমডির দায়িত্ব পাওয়া ওয়াসার পরিচালক (উন্নয়ন) আবুল কাশেমকে ‘ভারপ্রাপ্ত এমডি’ বলতে নারাজ ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, দু’জন এমডি এ কথাটি মোটেই ঠিক নয়। ওয়াসার এমডি একজনই। তিনি ছুটিতে বিদেশে রয়েছেন। অন্য কাউকে এমডি বা ভারপ্রাপ্ত এমডি বলার সুযোগ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় থেকে এমডির তিন মাসের ছুটি মঞ্জুর এবং এমডি নিজেই আদেশ জারি করে বিদেশে বসে অফিস করা শুরু করেছেন। এগুলোর কোনোটির বিষয়েই পর্ষদকে জানানো হয়নি। পর্ষদকে অন্ধকারে রেখে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বেআইনি।

পর্ষদের সদস্যরা বলছেন, মন্ত্রণালয় থেকে তাকে তিন মাসের বৈদেশিক ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে। যদিও নতুন নিয়োগের পর দুই মাস পার না হওয়ায় তার এতদিন ছুটি পাওনা হয়নি। তাই স্বাভাবিকভাবেই ছুটি হতে হবে বিনা বেতনে। কিন্তু তা মানা হয়নি। বোর্ডের অনুমোদন না নিয়ে এমডি নিজেই নিজের বিদেশ যাওয়ার অফিস আদেশ জারি করেন। এটা সরকারি কোনো আইনেই পড়ে না।

বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, এমডির ছুটি এবং বিদেশে অবস্থান করে ওয়াসা পরিচালনার বিষয়ে বোর্ড থেকে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের সঙ্গে তিনি যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। তার সঙ্গে আলোচনার পরেই এমডির আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

২০০৯ সালে প্রথম দফায় নিয়োগ পাওয়ার পর আর পদ ছাড়তে হয়নি তাকসিম এ খানকে। নাগরিক সেবার মান নিয়ে তীব্র সমালোচনা এবং নানা বিতর্কের মুখে পড়লেও ওয়াসার এমডি পদে দফায় দফায় নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। ষষ্ঠবারের মতো তাকসিমকে ওয়াসার এমডি হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয় গত বছরের ১ অক্টোবর। প্রতিবারই তার নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।