জাপানি মায়ের সেই দুই সন্তান সিআইডি হেফাজতে

পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সিআইডির মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজাদ রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেন, সিআইডি জাপানি নাগরিকের ওই দুই সন্তানকে হেফাজতে নিয়েছে। সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে তাদের নিয়ে আসা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, তাদের কার্যালয়ে নিয়ে আসার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই জাপানি শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা এবং তাদের বাবা শরীফ ইমরানকে এক মাসের জন্য দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুই শিশুকে আগামী ৩১ আগস্ট আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

তারও আগে ওইদিন সকালে দুই কন্যাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে হেবিয়ার্স কর্পাস আবেদন করেন জাপানি চিকিৎসক নাকানো এরিকো। রিটে দুই কন্যাকে নিজের জিম্মায় নেয়ার নির্দেশনা চান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে জাপানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক শরীফ ইমরান- জাপানি চিকিৎসক নাকানো এরিকোর বিয়ে হয়। এরপর থেকেই টোকিওতে বসবাস শুরু করেন তারা। ১২ বছরের সংসারে তিন কন্যা সন্তান জন্ম হয়। তিনজনই টোকিওর চফো সিটিতে অবস্থিত আমেরিকান স্কুল ইন জাপানের শিক্ষার্থী।

২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি শরীফ ইমরান এরিকোর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। ২১ জানুয়ারি ইমরান আমেরিকান স্কুল ইন জাপান কর্তৃপক্ষের কাছে তার মেয়ে জেসমিন মালিকাকে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু এতে এরিকোর সম্মতি না থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ইমরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এরপর এক দিন জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা স্কুল বাসে বাড়ি ফেরার পথে বাসস্টপ থেকে ইমরান তাদের অন্য একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। পরে নকল পাসপোর্ট তৈরি করে ইমরান দুই কন্যাকে নিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছান।