তালেবানের হামলায় আফগানিস্তানের ২৯ নিরাপত্তাকর্মী নিহত

দেশটির চারটি প্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় তালেবানের হামলায় এ হতাহতের ঘটনাগুলো ঘটে। তালেবান ও দেশটির সরকারের মধ্যকার শান্তি আলোচনার মাঝেই নতুন করে হামলা চালাচ্ছে তালেবান।

আফগানিস্তানের বালখ, কান্দাহার, তাখার ও কাপিসা প্রদেশে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে তালেবান বাহিনী। হামলা চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর। আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার দেশটির উত্তর-পূর্ব প্রদেশ তাখারে তালেবানের হামলায় তিন পুলিশ ও ছয় আফগান সেনাসদস্য নিহত হয়েছে। এসময় আহত হয়েছে আরও চারজন।

এছাড়া আফগানিস্তানের কাপিসা প্রদেশে তালেবানের হামলায় নিহত হয়েছে আট নিরাপত্তাকর্মী। পুলিশ বলছে, রোববার স্থানীয় তাগাব জেলায় মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত চলে সংঘর্ষ। পরে নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর আট সদস্য।

অন্য সংঘর্ষের ঘটানটি ঘটে বালখ প্রদেশে। প্রদেশ সরকারের মুখপাত্র মুনির আহমেদ ফরহাদ বলেন, সোমবার সকালে স্থানীয় হেওয়াদ জেলায় হামলা চালায় তালেবান। তিন ঘণ্টার এ সংঘর্ষে পাঁচজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়। এসময় তিনজনকে বন্দী করে তালেবান।

তালেবানের এবারের হামলার লক্ষ্য কান্দাহার প্রদেশ। সেখানকার হামলায় প্রাণ হারান সাতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। প্রদেশ পুলিশের মুখপাত্র জামাল বারিকজাই জানান, রোববার সন্ধ্যায় মারুফ জেলায় এ হামলা চালায় তালেবান।

গত ২৪ ঘণ্টায় চলা সংঘর্ষগুলোয় তালেবানও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে তালেবানের পক্ষ থেকে নিজেদের হতাহতের কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

কাতারের দোহায় চলছে তালেবান ও দেশটির মার্কিন সমর্থিত আশরাফ ঘানি সরকারের মধ্যকার শান্তি আলোচনা। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ শান্তি আলোচনায় গতি এসেছে সম্প্রতি। গত নয় দিন থেকে জোরালোভাবে চলছে সে আলোচনা। কিন্তু এ আলোচনার মধ্যেই নতুন করে হামলা শুরু করেছে তালেবান।

তালেবানের সাম্প্রতিক হামলার পর সোমবার এক টুইট বার্তায় মার্কিন বিশেষদূত জালমাই খলিলজাদ বলেন, তালেবানের সাম্প্রতিক হামলায় শান্তি ফিরবে না আফগানিস্তানে। তিনি তালেবানসহ উভয় পক্ষকে সংঘর্ষ বন্ধ করে কার্যকর শান্তি আলোচনার তাগিদ দেন।

এদিকে রোববার এক বিবৃতিতে আফগানিস্তানে ইসলামি শাসন ব্যবস্থার রূপরেখা দিয়েছে তালেবান। বিবৃতিতে তালেবান জানিয়েছে, তারা আশরাফ ঘানি সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তালেবান চায় আফগানিস্তানে প্রকৃত ইসলামি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হোক। যেখানে নারীদের অধিকার থাকবে ধর্মীয়বিধি অনুসারে। এছাড়া বিবৃতিতে আরও বলা হয় প্রকৃত ইসলামি ব্যবস্থাই হতে পারে আফগানিস্তানের একমাত্র সমাধানের পথ। সূত্র: টোলো নিউজ