তিথি সরকার গ্রেপ্তার: সিআইডি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ শিক্ষার্থী তিথি সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বুধবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় তারা।

এর আগে ২৫ অক্টোবর সকাল ৯টার পর তিথি সরকার নিখোঁজ হন বলে জানান তার বড় বোন।

বুধবার পাঠানো বিবৃতিতে সিআইডি জানায়, তাদের সাইবার পুলিশ সেন্টার এর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তিথি সরকারকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

সিআইডির গণমাধ্যম শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার জিসানুল হক এ বিবৃতি পাঠান।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী তিথি সরকারকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। মিরপুরের পল্লবীর বাসিন্দা তিথি সরকার বাবা, ভাই, বোন ও ভাবির সঙ্গে থাকতেন।

তার বোন স্মৃতি সরকার বলেন, ২৩ অক্টোবর তিথি জানতে পারে তার ফেইসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে। জানার পর সে থানায় জিডি করে। পরের দিন পুলিশ বাসায় এসে তাকে থানায় যেতে বলে।

স্মৃতি সরকার বলেন, বাবার সঙ্গে ওর থানায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাবা বাসায় না থাকায় সে একাই চলে যায়। বাসা থেকে বের হওয়ার সময়ই তার সঙ্গে আমাদের সবশেষ কথা হয়। এরপর আর যোগাযোগ নাই।

তিথি ২৫ অক্টোবর সকাল ৯টার পর থানার উদ্দেশে একাই বের হন জানিয়ে স্মৃতি বলেন, তারপরও আমরা ফোনে চেষ্টা করেছি। দুপুর থেকেই খোঁজ নিই বিভিন্ন জায়গায়। থানায় গেছে কি না সে খোঁজ নিতে ১১টার দিকে থানায়ও ফোন করেছিলাম।

এ ঘটনায় ২৭ অক্টোবর সাধারণ ডায়রি হয় বলে জানিয়ছিলেন পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী।

তিথির বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে ২৪ অক্টোবর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছিল একদল শিক্ষার্থী। সেখানে ইসলামি শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, আহলে হাদিসের মতো ধর্মভিত্তিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অংশ নিয়েছিল ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের কর্মীরাও। তাদের দাবির মুখে ২৭ অক্টোবর ওই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়।

সর্বশেষ সোমবার সিআইডি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়মিতভাবে মনিটরিং করাকালীন গত ৩১ অক্টোবর সকালে সিআইডির সাইবার মনিটরিং টিম দেখতে পায় যে, ফেসবুকে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তিথি সরকারকে সিআইডির মালিবাগ অফিসের চারতলা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার’ শীর্ষক একটি সংবাদ পোস্ট ও শেয়ার করা হয়। এই সংবাদটি দ্রুত বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ভাইরাল করা হয়। যা একটি সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত সংবাদ। এই ধরনের সংবাদ বা তথ্য শেয়ার-পোস্ট করার মাধ্যমে সিআইডি তথা বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি বা সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। প্রকৃতপক্ষে এই ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।

এ ঘটনায় তারা নিরঞ্জন বড়াল (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।