শিরোনাম:

দুই গৃহবধূকে গণধর্ষণ ও হত্যা: দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর

চুয়াডাঙ্গার আলোচিত দুই গৃহবধূকে গণধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামির সোমবার (৪ অক্টোবর) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এ সময় জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং সিভিল সার্জন উপস্থিত ছিলেন।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার তুহিন কান্তি খান বলেন, চুয়াডাঙ্গার আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনের ফাঁসি কার্যকরের জন্য কয়েক দিন আগে থেকেই আমরা প্রস্তুতি নিই। শনিবার যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে শেষবারের মতো স্বজনরা তাদের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের দুজনের শেষ ইচ্ছা অনুযারী দুই পরিবারের অর্ধশতাধিক মানুষের সঙ্গে দেখা করাই।

এ ছাড়া তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী শনিবার গরুর কলিজা ও ইলিশ মাছ খাওয়ানো হয়। রবিবার গ্রিল ও নান রুটি আর সোমবার মুরগির মাংস, দই আর মিষ্টি খাওয়ানো হয়।

এদিকে দুই খুনির ফাঁসি কার্যকর করার জন্য কারাগারের নিরাপত্তায় সন্ধ্যার পর থেকেই গোটা এলাকায় পুলিশ ও র‍্যাবের নজরদারি বাড়ানো হয়। ১৩ জন অস্ত্রধারী কারারক্ষী কারাগারে দায়িত্বে ছিলেন।

এ ছাড়া পুলিশ ও র‍্যাবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন কারাগারের প্রধান ফটকে।

কারাসূত্রে জানা গেছে, দুই খুনির ফাঁসি কার্যকরে রাতে একে একে কারাগারে প্রবেশ করেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়াদ্দার, সিভিল সার্জন দিলীপ শেখ আবু শাহীন ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান। রাতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই আসামিকে গোসল করানোর পর তাদের তওবা পড়ান কারা মসজিদের ইমাম। রাতেই স্বজনদের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের পর তাদের খাবার খাওয়ানো হয়।

এর পর তাদের রায় পড়ে শোনানো হয়। নিম্ন আদালতের রায়, আপিল এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি তাদের জানানো হয়। পরে তাদের জমটুপি পরিয়ে ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হয়। সোমবার রাত পৌনে ১১টায় প্রথমে মিন্টু ওরফে কালু এবং এর পাঁচ মিনিট পর একই গ্রামের আজিজ ওরফে আজিজুলের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

ফাঁসি কার্যকরে জল্লাদ কেতু কামার, মশিয়ার রহমান, লিটু হোসেন, আজিজুর রহমান ও কাদের অংশ নেন। ফাঁসি কার্যকরের পর সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে চিকিৎসক টিম তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করে। এর পর ফরেনসিক টিম ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে সন্ধ্যায় আলমডাঙ্গার খাসকররা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান রুন্নুর নেতৃত্বে মিন্টু ও আজিজুলের পরিবারের সাতজন সদস্য তাদের মরদেহ নিতে কারাগারে আসেন।

এ সময় তাদের দুজনের জন্য পৃথক দুটি অ্যাম্বুলেন্স সঙ্গে ছিল। ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পরিবারের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের সময় কালু ও আজিজ সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে কাঁদতে থাকেন। লাশ রাতেই বাড়িতে পৌঁছানোর সময় স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে এলাকার বাতাস। পরে সকাল ৬টায় দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০০৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জোরগাছা হাজিরপাড়ায় ওই দুই গৃহবধূ হত্যার শিকার হন। পুলিশের তদন্তে হত্যার আগে গণধর্ষণের তথ্য উঠে আসে। পুলিশ এ ঘটনায় পাশের রায় লক্ষ্মীপুর গ্রামের আজিজ, মিন্টু, মহিউদ্দিন ও সুজন নামের চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। বিচার চলাকালে আসামি মহিউদ্দিন মারা যান।

পরে ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অন্য তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা আপিল করলে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখেন। এরপর আসামিরা সুপ্রিম কোর্টে গেলে আদালত আসামি সুজনকে খালাস দিয়ে আজিজ ও মিন্টুর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন। এরপর রাষ্ট্রপতি বরাবর দুই আসামির মা আবেদন করলে তা মঞ্জুর না করায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ৬ সেপ্টেম্বর ফাঁসি কার্যকর করতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারকে নির্দেশনা দেয়। সেই অনুসারে গত রাতে ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।