পদ্মা সেতুকে ঘিরে বাড়ছে জমির দাম, হচ্ছে অর্থনৈতিক অগ্রগতি

পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে দুপাড়ে অর্থনৈতিক ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। মানুষের জীবনমানে এসেছে নতুন মাত্রা। দৃষ্টিনন্দন এক্সপ্রেসওয়ে সড়কে এলাকার প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সাজে। যাতায়াতের সময় যেমন সাশ্রয় হচ্ছে তেমনি পদ্মা সেতুর আশেপাশে এলাকার জমিজমার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে অনেকগুণ।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা এখানকার অনেক এলাকায় ভূমি কিনছেন। অনেকে ভূমি কিনে রেখেছেন। অনেক হাউজিং প্রকল্পও ইতোমধ্যে ঢুকেছে। সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে সড়কের পাশের এলাকাগুলোতে। পদ্মা সেতু চালু হলে এসব এলাকায় পর্যটনশিল্প, শিল্প-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হলে অর্থনৈতিক আরও পরিবর্তন ঘটবে এসব এলাকার মানুষের।

লৌহজং দক্ষিণ মেদিনীমন্ডল এলাকার মোঃ শরিফুল ইসলাম সঞ্জীব জানান, আমাদের বাড়ি এলাকার জায়গা আজ থেকে ১০-১২ বছর আগে বেচাকেনা হতো শতাংশ প্রতি ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। এখন এসব জায়গা বিক্রি হয় প্রতি শতাংশ ৪ থেকে ৫ লাখ টাকায়। এর সবই পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে। এখন এসব অঞ্চলের জায়গা মানুষ বিক্রি করতে চাইছে না। তারা মনে করে পদ্মা সেতুর জন্য জায়গা আরও অধিগ্রহণ করবে। আর তাতে জায়গার দাম পাবে তিন গুণ। এই ভেবে এখন কেউই জায়গা বিক্রি করতে চাইছে না।

যাদের জমি পদ্মা সেতুর কাজে অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাদের মূল্যের তিনগুণ টাকা দেওয়া হয়েছে। তাদের পুনর্বাসন কেন্দ্র করে দেওয়া হয়েছে। পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে স্থানীয় অনেক শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ায় বেকারত্ব কমেছে। কমেছে দারিদ্র্যতা। স্বাবলম্বী হয়েছে অনেকে।

এছাড়াও পদ্মা সেতু দেখতে পদ্মা পাড়ে শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় অনেক পর্যটক আসছেন। ঘাট এলাকায় খাবারের দোকানগুলোতে জমজমাট ব্যবসা হচ্ছে। পদ্মার পাড়ে বসে পদ্মার রূপালি ইলিশ ভেজে খেতে ও পাড় থেকে সেতু দেখতে আসছেন অনেকে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) সফলভাবে পদ্মা সেতুর শেষ ও ৪১তম স্প্যান (২এফ) বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর পুরো কাঠামো ৬.১৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান হয়।