পদ্মা সেতুর টোল এখনও চূড়ান্ত হয়নি : সেতু বিভাগ

নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর টোল এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ। মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পদ্মা বহুমুখী সেতুর টোল হার নিয়ে যে অপপ্রচার চলছে তা সেতু বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। টোলের হার নির্ধারণের বিষয়টি অপপ্রচার এবং গুজব। পদ্মা বহুমুখী সেতুর টোল হার এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে টোলের হার নির্ধারণ করার লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তীতে টোল হার নির্ধারণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। টোলের হার নির্ধারিত হলে জনগণকে অবহিত করা হবে। এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সেতু বিভাগ।

দেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পুরো পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হয়েছে। গত ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের ওপর সর্বশেষ ৪১তম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় সেতুর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার।

সেতু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত পদ্মা সেতুর সার্বিক অগ্রগতি সাড়ে ৮২ শতাংশের বেশি। মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি ৯১ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি ৮৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। মূল সেতুর কাজের চুক্তিমূল্য ১২ হাজার ১৩৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৭২৩ দশমিক ৬৩ কোটি টাকা। নদীশাসন কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৬৫ দশমিক ১৭ শতাংশ। নদীশাসন কাজের চুক্তিমূল্য আট হাজার ৭০৭ দশমিক ৮১ কোটি টাকা এবং এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে পাঁচ হাজার ৬৭৪ দশমিক ৪৮ কোটি টাকা। সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়ার বাস্তব কাজের অগ্রগতি শতভাগ।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড।