পরিবারের সদস্যসহ এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা

মানবপাচারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুলসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর পল্টন থানায় সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আল আমিন হোসেন বাদী হয়ে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল (৫৭), তার ব্যক্তিগত কর্মচারী মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান মনির (৩৫), পাপুুলের শ্যালিকা জেসমিন প্রধান (২৩), পাপুলের মেয়ে ওয়াফা ইসলাম (২৬), পাপুলের ভাই কাজী বদরুল আলম লিটন, জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা (৫৬), জেসমিন প্রধানের মালিকানাধীন কোম্পানি জে. ডব্লিউ লীলাবালী, ও লিটনের মালিকানাধীর জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনালসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ভিকটিম প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫-৭ লাখ টাকা নিয়েছেন। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী অভিযুক্ত ৮ জনসহ আরও ৫-৬ জন সংঘবদ্ধভাবে মানবপাচারের মাধ্যমে ন্যূনতম ৩৮ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৭ টাকা অবৈধ আয় করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল এবং তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানবপাচার সংক্রান্তে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনানুযায়ী অনুসন্ধান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা মানবপাচারের মাধ্যমে প্রচুর অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। অপরাধের মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন, ভোগ ও অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদে রূপান্তর করা আইনানুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

পাপুল ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তি ও তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে মানবপাচারের মাধ্যমে অর্জিত আয়ের প্রকৃত উৎস গোপনের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবে জমা ও স্থানান্তর করে নামে-বেনামে সম্পদে রুপান্তর করেছেন মর্মে অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে।

সিআইডির সিনিয়র এএসপি জিসানুল হক জিসান জানান, পাপুলসহ ৮ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামোল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি সিআইডি তদন্ত করবে।