শিরোনাম:

পাকা মরিচে লালে লাল বগুড়ার চরাঞ্চল

ডেস্ক রিপোর্ট: বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনার চরাঞ্চল এখন পাকা মরিচের রঙে লালে লাল। ক্ষেত থেকে পাকা মরিচ তোলা, রোদে শুকানোসহ নানান কাজে ব্যস্ত চরাঞ্চলের চাষিরা।

সারিয়াকান্দির মরিচ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। এমনকি রপ্তানিও হয় বিদেশে। কৃষি বিভাগের হিসেবে শুধু সারিয়াকান্দিতেই এবার শত কোটি টাকার মরিচ উৎপাদন হয়েছে।

দফায় দফায় বন্যায় যমুনা নদীর ফেলে যাওয়া পলি মাটিতে যুগ যুগ ধরে বিশেষ জাতের মরিচ চাষ করছেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকেরা।

সারিয়াকান্দি উপজেলার বোহাইল, কাজলা, চন্দনবাইশা, কামালপুরসহ বিভিন্ন চরের কোথাও সবুজক্ষেতে লাল মরিচের সমাহার, কোথাও বা পাকা মরিচ শুকানো হচ্ছে রোদে।  মরিচ তোলা, বাছাই, শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সবাই।

‘সারিয়াকান্দির’ জাত হিসেবে পরিচিত এই মরিচ যেমন ঝাল তেমনি স্বাদে সেরা।  তাই দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা।

মরিচ চাষিরা বলেন, ‘চৈত্র মাস হলে মরিচটা লাল হয় তখন উঠানো হয়। উঠানো মরিচ মাঠে আরও ভালো করে শুকিয়ে বাজারে বিক্রি করতে হয়। আমি সারাদিন মরিচের কাজই করি।’

জমি থেকে পাকা মরিচ তুলে তা শুকানোর পর বেশিরভাগ মরিচই কিনে নেন পাইকারী বিক্রেতারা। প্রক্রিয়াজাতের পর ব্যবসায়ীদের হাত ধরেই মরিচ চলে যায় বিভিন্ন কোম্পানি এবং রপ্তানিকারকের কাছে।

মরিচ ব্যবসায়ী বলেন, একটু পাকা মরিজ উঠায় নিয়া আসি তা ভালো করে শুকিয়ে বিক্রি করি। অনেকেই ব্যবসার জন্য মরিচ স্টোকে রাখছে। সময় হলে বের করে মসলাজাত কোম্পানীগুলোকে সরবরাহ করা হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন,’আবহাওয়া ভালো থাকার কারনে ভালো ফলন পেয়েছে কৃষকরা। এবার প্রতি বিঘাতে মরিচ হয়েছে ৮-১০ মন। বাজার হিসাবে ৫-৭ হাজার টাকা মন এই মরিচ। প্রতি বছর অন্তত শতকোটি টাকার বেচাকেনা হয় সারিয়াকান্দির এই লাল মরিচের। ‘

চলতি মৌসুমে উপজেলায় মরিচ আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে।  ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচে বিঘা প্রতি শুকনা মরিচ মিলছে ৮ থেকে ১০ মণ।  কৃষক পর্যায়ে যা বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে ৬ কিংবা ৮ হাজার টাকায় । ডিবিসি