বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে এলিমিনেটর ম্যাচে নিজ দলের সতীর্থকেই মারতে গেলেন মুশফিক!

 

ভাগ্যিস, এটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নয়, তাহলে এতক্ষণে সারা ক্রিকেট বিশ্বে সাড়া পড়ে যেত। এমন হলে রীতিমতো তোপের মুখে পড়তেন মুশফিকুর রহীম। ক্রিকেট বিশ্বে নিন্দা, সমালোচনার ঝড় বয়ে যেত।

অবশ্য টিভিতে দেখে মুশফিকুর রহীমের নেতিবাচক ও অখেলোয়াড়ি আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন অনেকেই। না জানিয়ে উপায় কি? জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবং এ মুহূর্তে দেশের ক্রিকেটের অন্যতম সিনিয়র ক্রিকেটার হয়ে নিজ দলের সতীর্থ ক্রিকেটারের সঙ্গে যে আচরণটা করলেন, মেনে নেয়ার মতো নয়।

হোক না নিজ দলেরই খেলোয়াড়, তারপরও একটা প্রতিযোগিতামূলক আসরে এমনভাবে তেড়ে যাওয়া এবং সতীর্থকে বল ছুড়ে মারার ভঙ্গি করা মোটেই খেলোয়াড়িসুলভ আচরণের পর্যায়ে পড়ে না।

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি আসরে আজ (সোমবার) দুই দুইবার সেই ন্যক্কারজনক ঘটনাই ঘটিয়েছেন বেক্সিমকো ঢাকার অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম, ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে এলিমিনেটর ম্যাচে।

প্রথমবার ১৩ নম্বর ওভারে। বোলার নাসুম আহমেদের বলে খালি জায়গায় ঠেলে ডাবলস নিয়ে নেন বরিশালের বাঁহাতি মিডলঅর্ডার আফিফ হোসেন ধ্রুব। অফসাইডে বেশি ফিল্ডার নিয়ে ফিল্ডিং সাজানোয় মিড উইকেট ছিল খালি। তাই উইকেটকিপার মুশফিক ছুটে গিয়ে ডাবলস এড়ানোর চেষ্টা করেন। তার পাশাপাশি বোলার নাসুমও ছুটে যান সেখানে। এতে করে বোলিং এন্ডে ব্যাকআপ কেউ ছিল না। মুশফিক বল হাতে নিয়ে ছুড়ে মারতেও পারেননি। তাই রাগে ক্ষোভে তেড়ে যান নাসুমের দিকে।

পরের ঘটনা ১৭ নম্বর ওভারের। এবার পেসার শফিকুলের বলে শর্ট ফাইন লেগে গিয়ে আফিফের ক্যাচ ধরতে যান মুশফিক। একই সাথে বলের কাছে ছুটে আসেন নাসুমও। মুশফিক উইকেটের পিছনে দৌড়ে বল গ্লাভসে নিয়ে দেখেন নাসুম ছুটে এসে তার শরীর ঘেষে দাঁড়িয়ে। উচ্ছ্বাস ও উল্লাস করার বদলে চোখ বড় বড় করে রেগে মেগে, নাসুমকে বল ছুড়ে মারতে উদ্যত হন মুশফিক। তবে পরক্ষণে নিজেকে সামলে তার পিঠ চাপড়ে উৎসাহিতও করেন।

কিন্তু দৃশ্য দুটি খুবই চোখে লেগেছে। দেশের অন্যতম শীর্ষ ক্রিকেটারের কাছ থেকে এমন আবেগতাড়িৎ ও ক্ষুব্ধ আচরণ দেখে সবাই যারপরণাই হতাশ। ঢাকা ও বরিশাল ম্যাচ শেষে সবার প্রশ্ন, ‘মাঠে এমন দৃষ্টিকটুৃ ও অখেলোয়াড়িচিত আচরণের জন্য মুশফিকের কি কোনো শাস্তি হবে?’

এ ব্যাপারে ম্যাচ রেফারি রকিবুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনোরকম আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। শুধু বলেছেন, এসব ক্ষেত্রে ম্যাচ রেফারি যেচে কিছু করেন না। আম্পায়ারদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেন। তাই আগে আম্পায়ারদের রিপোর্ট আসুক, তারপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা।

এদিকে রকিবুল হাসানের কথায় আরও একটি ইঙ্গিত মিলেছে। আম্পায়ারদের রিপোর্ট আসার পর মুশফিককে ডাকা হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর তার অতীত ট্র্যাক রেকর্ড মানে মাঠের আচরণও খুঁটিয়ে দেখা হবে। যদি আগে মাঠে কোনো দৃষ্টিকটু এবং অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ না থাকে, তাহলে কিছুই হবে না। বিডিনিউজ২৪