বিজয়ের দিন: সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো মহান বিজয় দিবসে

আজ বিজয়ের দিন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানি শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনে মুক্তিযোদ্ধারা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পর একাত্তরের এই দিনে ঢাকায় রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি সেনারা যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের। তাই আজ স্বতঃস্ফুর্ত আবেগ আর ভালোবাসায় মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছে সমগ্র জাতি।

বুধবার ভোরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান তাদের সামরিক সচিবরা। পরে সেখানে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরাসহ সর্বস্তরের মানুষ।

শহীদদের ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, গার্ড অব অনারসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জেলায় জেলায় পালিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস।

গোপালগঞ্জে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয় দিবস পালনের কর্মসূচি। পরে প্রশাসন, পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আওয়ামী লীগসহ রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী ও শ্রমজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে শহরের শেখ কামাল স্টেডিয়াম সংলগ্ন শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে ৭১-এর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সেখানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে মানুষের ঢল নামে। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ।

সকাল সাড়ে ৭টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খানের নেতৃত্বে শহরে একটি বিজয় শোভযাত্রা বের করা হয়।

সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সুশাসন চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ডিসি শাহিদা সুলতানা ও পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান। এরপর গার্ড অব অনার প্রদান করে জেলা পুলিশ। পরে বেলুন ও শান্তির প্রতীক কবুতর ওড়ানো হয়।তারপর সুশাসন চত্বরে বৃক্ষের চারা রোপন করা হয়।

সকাল ৯টায় শহরের জয়বাংলা পুকুর পাড়ের বধ্যভূমির স্মৃতিসৌধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

এছাড়াও টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের বেদীতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুস সামাদ ডন ও আব্দুল আওয়াল শামীম ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

টাঙ্গাইলে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি-বেসরকারি এবং মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একই সাথে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে ৩১ বার তোপধ্বনি, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে ও শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে।

ময়মনসিংহে স্বাস্থ্য বিধি মেনে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে। সকাল ৭টায় নগরীর পাটগুদাম ব্রীজ মোড় স্মৃতিস্তম্ভে ৩১ বার তপোধ্বনির মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মনিরা সুলতানা মনি। পরে সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু, বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান, রেঞ্জ ডিআইজি ব্যরিস্টার হারুন অর রশিদ, ডিসি মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বাগেরহাটে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে। সকালে বাগেরহাট শহরের দশানী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যে দিয়ে দিনটির সূচনা হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য জীবন দেয়া বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করে কুমিল্লায় পালন করেছে বিজয় দিবস। সূর্যোদয়ের সময় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়ে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, নগর উদ্যানের বঙ্গবন্ধু ম্যুরালসহ, শহীদের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্যে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন সদর সংসদ সদস্য আকম বাহা উদ্দিন বাহার, নারী সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমা। এসময় পুলিশবাহিনীর বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর।

এরপর জেলার ডিসি আবুল ফজল মীরের নেতৃত্ব জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলার সামাজিক-সাংস্কুতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাথীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শ্রদ্ধা জানান।

জয়পুরহাটে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবসের শুভ সূচনা হয়। দিবসের প্রথম প্রহরে স্থানীয় কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন জেলার ডিসি শরীফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সালাম কবির, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান রকেট।

এছাড়াও পুষ্পস্তবক অর্পন করে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জেলা প্রেসক্লাব, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক সংগঠন ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

শেরপুরে একত্রিশ বার তোপধ্বনি, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবসের সারা দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়।

সাতক্ষীরায় মহামারী পরিস্থিতির মধ্যে সীমিত পরিসরে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস। শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে বুধবার প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির শুভ সূচনা করা হয়।

এদিকে, মহান বিজয় দিবসে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন। এতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগ দেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরীর নেতৃত্বে ধানমন্ডিতে যান সিনিয়র নেতারা। এরপর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জাতির পিতার প্রতি। পরে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ বঙ্গবন্ধু ভবনে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

এসময় বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।