শিরোনাম:

শিক্ষার আলো ছড়ানো শিক্ষক লকডাউনে সবজি বিক্রেতা!

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বেতন বন্ধ, আর্থিক কষ্ট চরমে। তাই বাধ্য হয়ে ভ্যানে করে আলু-পেঁয়াজ-রসুন বিক্রি করছেন মগবাজার মডার্ন চাইল্ড স্কুলের শিক্ষক থমাস হাওলদার। তিন সন্তানের সংসার নিয়ে ঢাকায় টিকে থাকতে অন্য কোনও উপায় পাননি। মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি পেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতা চাইলেন এই শিক্ষক।

কিছুদিন আগেও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতেন থমাস হাওলাদার। কিন্তু করোনার ভয়াল ছোবলে আজ তিনি সবজি বিক্রেতা। রাজধানীর মগবাজারের পেয়ারাবাগ মসজিদের সামনে প্রতিদিন ভ্যানে করে আলু, পেঁয়াজ, রসুন ও আদা বিক্রি করেন।

মগবাজার পেয়ারবাগে মডার্ন চাইল্ড এডুকেয়ার স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক থমাস হওলাদার। ২১ বছর এই স্কুলে চাকরি করেছেন। স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাও তিনি।

করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বেতন বন্ধ হয়ে গেছে এই স্কুলের শিক্ষকদের। এ কারণে চরম আর্থিক কষ্টে পরেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলা করোনার ধাক্কায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। বাধ্য হয়ে সবজি বিক্রি করে সংসার চালাতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি যখন প্রথম দেখলাম আমার সংসার চালানো কষ্ট হচ্ছে, তখন চিন্তা করি বাজার থেকে কিছু কিনে এনে যদি বিক্রি করতে পারি তাহলে অন্তত সংসারের খরচটা হয়ে যাবে। ভ্যানের সম্পূর্ণ টাকা এখনো দেয়া হয়নি। পরিচিতরা ভাবে যে, অন্য জায়গা থেকে না নিয়ে স্যারের কাছ থেকে নেই।

শিক্ষকতা পেশায় ফেরার তাগিদ অনুভব করেন সবসময়। ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার ক্ষতির বিষয়টিও পীড়া দেয় তাকে। বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলগুলোর জন্য আর্থিক প্রণোদনার দাবি জানালেন তিনি।

মডার্ন চাইল্ড এডুকেয়ার স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক থমাস হালদার আরও বলেন, আমরা যারা শিক্ষকরা কোনও বেতন পাচ্ছি না তারা নিজেদের ঘর ভাড়া, খাওয়া এসব চালাতে পারছি না। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষভাবে আবেদন জানাচ্ছি, তিনি যেন আমাদের দিকে দৃষ্টি দেন। আমাদের জন্য যেকোনো অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়।

বেসরকারি অনেক স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষকরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, অনেকেই বেতন না পেয়ে আর্থিক কষ্টে আছেন- এই চরম দুর্দশা কাটাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই শিক্ষক।