শিরোনাম:

শীতকালীন চিকিৎসায় আমলকির জুস খাওয়ার পরামর্শ আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞের

বার্তাসঞ্চালন ডেস্ক: আমলকিকে বলা হয় সর্বরোগের মহৌষধ। রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে অতন্ত উপকারী আমলা। তাই তো শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের রোগের চিকিৎসা হিসেবে এই পানীয় খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। আমাদের এর মধ্যে আছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়া এবং অ্যাস্ট্রিনজেন্ট উপাদান। মলকি খা্ওয়ার ভালো উপায় হচ্ছে রস বা জুস বানিয়ে খাওয়া।

আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ক্যারোটিন, থায়ামিন, রাইবোফ্ল্যাভিন ও নিয়াসিন থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এটি সেবন করে আসছে। বিশেষ করে শীতকালে এটি নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে উপকার পাওয়া যায়। আমলকি নানাভাবে খাওয়া যায়।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডাঃ দীক্ষা ভাবসার তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে আমলকি খাওয়ার বিভিন্ন উপায় শেয়ার করেছেন। আমলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন।

আমলকিকে কেন সুপার ফুড বলা হয়-
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় আমলকি। ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান থাকার জন্য বিপাকের হার বাড়ে। ভাইরাল এবং ব্যাক্টেরিয়াল আক্রমণের জন্য সর্দি কাশির সঙ্গে যুঝতে সাহায্য করে। এটি প্রকৃতিতে পাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ফলগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয়। বাত, পিত্ত ও কফ এই তিন দোষের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এটি সর্বোত্তম বিকল্প। এটি খাওয়ার মাধ্যমে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে ক্রোমিয়াম থাকায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ওষুধের পাশাপাশি রোজ দুটো করে আমলকি ডায়েটে রাখতে পারেন। ১০০ গ্রাম আমলায় প্রায় ৭০০ গ্রাম ভিটামিন থাকে। তাজা আমলা খাওয়া শুধু ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে না কিন্তু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। কমলালেবুর চেয়ে অনেক গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে আমলকীতে। শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে ব্যাথা বেদনা কমিয়ে দেয়।

আমলা ডায়াবিটিস এবং ক্যানসারের জন্য মহাওষুধ: আমলা এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে তার ঔষধি গুণের জন্য পরিচিত। এটি শুধুমাত্র সংক্রমণ, সর্দি-কাশি দূর করে না, ডায়াবিটিস, ক্যানসার, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনি সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে। এমনকি চুল পড়ার সমস্যায়ও আমলা সমান উপকারী।

আমলা হজমের রোগ দূর করে:
চুল এবং ত্বকের স্বাস্থ্য মজবুত রাখে আমলকী। চুলের গোড়া মজবুত করে পাশাপাশি খুস্কি দূর করে। আমলকী হজম শক্তি বাড়ায়। কোষ্ঠকাঠিন্য অ্যাসিডিটি দূর করে। শীতকালে অনেকেরই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হয়। ভাল পরিমাণে আঁশযুক্ত আমলা হজমজনিত রোগ নিরাময়ের একটি দুর্দান্ত রেসিপি। ডাঃ দীক্ষা ভাবসার বলেন, আমলা অ্যাসিডিটি, ওজন হ্রাস, হজমের সমস্যা, থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, দৃষ্টিশক্তির উন্নতিসহ প্রায় প্রতিটি রোগে খুব ভালো কাজ করে।

মুখের ভেতরে আলসার নিরাময়ে: শরীরের ব্যাথা বেদনা থেকেও মুক্তি দেয় আমলকি। আমলার মধ্যে আছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা ব্যাথা কমাতে সহায়তা করে। মুখের ভেতরে আলসার হলেও আমলার রস জলে গুলে পাতলা করে তা দিয়ে গার্গল করলে উপকার পাওয়া যায়।

আমলা খেতে পারেন এই উপায়ে: আমলা ক্যান্ডি: বাচ্চাদের আমলকি খাওয়াতে আদর্শ হলো আমলা ক্যান্ডি। মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে হলেও মুখে একটা আমলা ক্যান্ডি ভরে নিতে পারেন।

আমলকির রস: আমলকির রসের মধ্যেও তার যাবতীয় পুষ্টিগুণ বজায় থাকে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে আমলার জ্যুস খান। এতে যে শুধু ওজন কমবে তা নয়, সঙ্গে বাড়বে রোগ প্রতিরোধ শক্তিও।

আমলকির আচার: ভাত-রুটির সঙ্গে একটু টক-ঝাল-মিষ্টি আমলকি খেতে চাইলে বেছে নিন আমলকির আচার। দিনে একবার করে আমলকির আচার খেতেই পারেন।

শুকনো করে: আমলা টুকরো টুকরো করে কেটে তা শুকিয়ে নিয়ে খেতেও পছন্দ করেন অনেকে। এর মধ্যে সামান্য নুন আর গোলমরিচের গুড়ো ছড়িয়ে নিতে পারেন। এয়ারটাইট জারে এই শুকনো আমলকি দীর্ঘদিন পর্যন্ত রেখে দিতে পারেন।