শ্যামলীতে থাইরয়েড পরীক্ষার ভুয়া ল্যাব সিলগালা, চিকিৎসকের সই গাড়িচালকের

টেস্ট রিপোর্টে চিকিৎসক হিসেবে সই করতেন গাড়িচালক। তারপর প্রতিষ্ঠানের প্যাডেই কম্পিউটার থেকে প্রিন্ট হতো থাইরয়েড পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট।

এভাবেই প্রায় ১০ বছর ধরে প্রতারণা করে আসছিল রাজধানীর শ্যামলীর হাইপো থাইরয়েড নামের একটি ভুয়া ল্যাব। শনিবার অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয় র‌্যাব এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দুইজনকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে পলাতক রয়েছে প্রতিষ্ঠানের মালিক।

শনিবার দুপুরে শ্যামলীর ১ নম্বর রোডে এই ভূয়া ল্যাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে র‌্যা্। ল্যাবটি থেকে গত ১০ বছর ধরে থাইরয়েড পরীক্ষার নামে দেয়া হতো ভুয়া রিপোর্ট। র‌্যা্ব এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, এত বছর ধরে কোনও রকম পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্ট দিত প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি রিপোর্টে চিকিৎসকের স্বাক্ষর দিতেন একজন গাড়িচালক।

র‌্যাব এর নির্বাহী হাকিম সারোয়ার আলম জানান,’ ডা. মনিরুজ্জামান, তিনি এই প্রতিষ্ঠানে কোন দিন আসেননি। কিন্তু ওনার নামে গত কয়েক বছর ধরে রিপোর্ট তৈরী হচ্ছে। এমন কি তিনি মারা যাবার পরও তার নামে অক্টোবরের ১৯ তারিখ পর্যন্ত রিপোর্ট স্বাক্ষর করা হয়েছে। তিনি মারা গেছেন মে মাসে। একজন ড্রাইভারের মাধ্যমে এই রিপোর্টে স্বাক্ষর করা হচ্ছে।’

র‌্যাব বলছে, প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল বাকেরকে গ্রপ্তারের চেষ্টা চলছে। সারোয়ার আলম আরও বলেন,’এই অপরাধে এখান থেকে দুইজনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এটা মারাত্মক অপরাধ। বিশেষকরে হরমন টেষ্ট না করে যদি এই রিপোর্ট দেয়া হয় তবে রোগী সাংঘাতিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

এদিকে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সন্ধি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে দুইজন দালালকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছে RAB এর ভ্রাম্যমান আদালত। নানা অনিয়মে প্রতিষ্ঠানটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।