শিরোনাম:

সরকারকে চাল না দেয়া মিলমালিকদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ

চুক্তির পরও চাল না দেয়া এবং চুক্তি মোতাবেক চাল সরবরাহে ব্যর্থ চালকলমালিকদের তালিকা প্রস্তুত করতে খাদ্য অধিদফতরের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) ঢাকায় তার সরকারি বাসভবন থেকে চালকলমালিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

পাশাপাশি ধান-চাল মজুদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলায় বাজার মনিটরিং কমিটি করার কার্যক্রম জোরদার করতে জেলা প্রশাসকদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

এ সময় তিনি অবৈধ মজুদদারদের তথ্য জেলা প্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে চালকলমালিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে পর্যাপ্ত ফসল হয়েছে, খাদ্যশস্যের কোনো সংকট হবে না। এসময়ে বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি অযৌক্তিক। প্রয়োজনে বেশি কর ছাড় দিয়ে খাদ্যশস্য আমদানি করা হবে।’

চালকলমালিকদের প্রতি মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নূন্যতম লাভে বাজারে চাল সরবরাহ করুন।’

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমের সভাপতিত্বে সভায় কৃষি বিপণন অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা হতে মিলমালিকরা মতামত তুলে ধরেন। এ সময় তারা নির্ধারিত তারিখের মধ্যেই শতভাগ চাল সরবারহের অঙ্গীকার করেন।

নওগাঁ জেলার অটো চালকলমালিক সমিতির বেলাল আহমেদ বলেন, ‘অনেক প্রতিষ্ঠান চাল প্যাকেটজাত করছে, বাজারে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীও এখন ধান মজুদ করছেন উচ্চদামে বিক্রির আশায়।’

তিনি বলেন, ‘আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ বাড়ানো হলে মজুদকরা ধান বাজারে আসতে শুরু করবে, চালের দামও নেমে আসবে।’

চাপাইনবাবগঞ্জের এরফান গ্রুপের স্বত্বাধিকারী মো. এরফান আলী বলেন, ‘ফুড গ্রেইন লাইসেন্স ছাড়া অনেকেই ধানের মজুদ করেছেন। বাজারে ধানের সংকটের কারণে মিল মালিকগণ ধান কিনতে পারছেন না। ফলে চুক্তি অনুযায়ী অনেক চালকলমালিক খাদ্য গুদামে সময়মতো চাল দিতে পারছেন না।’ এসময় তিনি অবৈধ মজুদদারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সংগ্রহ ও সরবরাহ) খাজা আব্দুল হান্নান সভায় উল্লেখ করেন, ৩০ জুনের মধ্যে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫ শতাংশ। করোনা মহামারি ও সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে সংগ্রহ অভিযান ব্যাহত হয়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত সিদ্ধ চাল সংগ্রহ হয়েছে ৫৭ শতাংশ এবং আতপ চাল ৪৬ শতাংশ।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, খাদ্য অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ ও মিলমালিক প্রতিনিধিগণ সভায় যুক্ত ছিলেন।