শিরোনাম:

৭২ মামলা নিয়েই চিরবিদায় নিলেন ছাত্রদল নেতা

খুলনায় সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক মামলার আসামি ছিলেন তিনি। গত ১০ বছরে খুলনার বিভিন্ন থানায় দায়ের করা ৭২টি মামলায় আসামি করা হয় তাকে। মাসজুড়ে আদালতে হাজিরা দিয়েই কাটত তার দিন। মহানগর যুবদলের কমিটিতে পদ না পাওয়ার কষ্টও ছিল মনে। বাবা-মায়ের সঙ্গে বড় ভাইকে হারিয়ে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। এসব কষ্ট নিয়েই মাত্র ৪২ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন।

রোববার প্রত্যুষে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে নিজ বাড়িতেই মারা যান তিনি (ইন্নালিল্লাহিইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)। খুলনায় পরিচ্ছন্ন চরিত্রের সজ্জন ছাত্রনেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কামাল। তার অকাল মৃত্যু ছুঁয়ে গেছে সবাইকে। শোকাহত হয়ে পড়েছেন তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ২টার দিকে টুটপাড়া নিজ বাড়িতে বুকে ব্যথা অনুভব করেন। সাড়ে ৩টার দিকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি স্ত্রী ও দিলরুবা নামের ৯ বছর বয়সী একমাত্র কন্যা সন্তান, এক বোন, মৃত ভাইয়ের স্ত্রী ও পুত্র সন্তান রেখে গেছেন তিনি। রোববার তার জানাজা টুটপাড়া বাইতুস শরফ জামে মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। পরে টুটপাড়া কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে ছাত্রদলের কর্মী, ১৯৯৫ সালে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন কামাল। ১৯৯৮ সালে নগরীর সরকারি সুন্দরবন কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও ২০০১ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন কামাল। ২০১৫ সালে হন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক।

২০১০ সাল থেকে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকার কারণে খুলনায় সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক মামলা দায়ের হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালের মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের সময় সভাপতি প্রার্থী ছিলেন তিনি। মহানগর যুবদলের কমিটি গঠনের সময়ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন কামাল। গ্রুপিংয়ের রাজনীতির কারণে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক মামলা এবং রাজপথে সক্রিয় থেকেও পরে ভালো কোনো পদ পাননি তিনি। এ নিয়ে প্রায় কষ্ট ও ক্ষোভের কথা বলতেন।